চাঁদা না পেয়ে ফসল তুলতে বাধা, জমি দখলের চেষ্টা

শরীয়তপুরের নওপাড়া ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া কৃষি জমির ফসল তুলতে বাধা দেওয়া এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌস মুন্সীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শফিউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে একটি চক্রের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি করছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাইনগাও মৌজা ও চরদিঘলী মৌজার বিস্তীর্ণ কৃষি জমি দীর্ঘদিন আগে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। এসব স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া জমিতে স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি ফেরদৌস মুন্সীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র ওই স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জমির ফসল তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, ফেরদৌস মুন্সীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাঙ্গু-পাঙ্গু, নওপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মহসিন সরদার, রইস্যা সরদার, জুলহাস হাওলাদারসহ আরও ১০–১২ জন ব্যক্তি ওই স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া কৃষি জমিতে গিয়ে দখলচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে নওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার অনিলচন্দ্রের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ওই স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া জমিকে ভিন্নভাবে দেখিয়ে প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিয়ে এলাকায় পুলিশ নিয়ে এসে সাধারণ কৃষকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, জমির ফসল ঘরে তোলার আগে স্থানীয় ইউপি ভূমি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, শিগগিরই বৃষ্টি শুরু হলে তারা যদি ফসল তুলতে না পারেন, তাহলে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়া এই জমিতে চাষাবাদ করছি। এখন আমাদের জমির ফসল তুলতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”

তারা আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে কিছু স্থানীয় নেতা সেই নাম ব্যবহার করে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং কৃষকদের ফসল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির স্থানীয় সভাপতি দাদন মুন্সি এবং সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *