রাজধানীতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোটি খালে পড়ে একই পরিবারের ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গতকাল ভোরে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাজার এলাকায় লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে মঙ্গলবার (৫ই আগস্ট) রাতে বাহারকে আনার জন্য মাইক্রোবাসযোগে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে যান। নিহতরা হলো- বাহারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা কবিতা (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবণী আক্তার (২৫)। নিহতরা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাঁসারি বাড়ির বাসিন্দা। তবে আহত ৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বেঁচে ফেরা প্রবাসী বাহার উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, চোখে ঘুম নিয়ে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিল চালক। বার বার বলা হলেও বিশ্রাম নেননি তিনি। এর আগে কুমিল্লায় একবার দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই।
কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার আগেই চালক গাড়িটি খালে ফেলে দেয়। এসময় গাড়িটি ধীরে ধীরে ডুবছিল। তখন চালককে গাড়ির লক খুলতে বললেও খুলে দেয়নি। তবে সে নিজে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যায়। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেনি। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে বাহার, তার বাবা আব্দুর রহিম, শ্বশুর ইস্কান্দার মীর্জা, ভাবি সুইটি ও শ্যালক রিয়াজ বের হয়ে আসে। তবে বাঁচতে পারেনি বাকিরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাইক্রোবাস চালকের বেপরোয়া গতি ও ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে এত বড় দুর্ঘটনা হয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী। চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও ৭ জন ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো বাড়িতে নিয়ে গেছে স্বজনরা।
তিনি জানান, এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনা তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বেলা ১০টার দিকে নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এসময় তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে আকাশ। কীভাবে এই শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে- সে চিন্তা স্বজনদের চোখে-মুখে। জানা যায়, বিকালে একই সঙ্গে পরিবারের ৬ জনকে পারিবারিক কবরস্থানে ও নানী ফয়েজুন নেছাকে হাজিরপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Leave a Reply