১০ হাজার টাকায় ছোট মেয়েকে বেচে দিয়ে বড় মেয়ের চিকিৎসা!

নেল্লোর (Nellore) জেলার কট্টুরের বাসিন্দা ওই পরিবার দিনমজুর। তাঁদের বড় মেয়ের বয়স ১৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই সে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিল। হতদরিদ্র মা-বাবা বহু চেষ্টা করেও চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতে বছর ৪৬-র এক প্রতিবেশী তাঁদের ছোট মেয়েকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
১০ হাজার টাকায় ছোট মেয়েকে বেচে দিয়ে বড় মেয়ের চিকিৎসা!

নেল্লোর: নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, এদিকে সন্তানের শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ। এই পরিস্থিতিতে টাকা জোগাড় করতে নিজেদের ছোট মেয়েকেই প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দিলেন দম্পতি। গল্প মনে হলেও অন্ধ্র প্রদেশ (Andhra Pradesh)-র নেল্লোরের বাসিন্দা দিনমজুর পরিবারের মর্মস্পর্শী কাহিনী সম্পূর্ণ সত্যি।

নেল্লোর জেলার কট্টুরের বাসিন্দা ওই পরিবার দিনমজুর। তাঁদের বড় মেয়ের বয়স ১৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই সে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিল। হতদরিদ্র মা-বাবা বহু চেষ্টা করেও চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতে বছর ৪৬-র এক প্রতিবেশী তাঁদের ছোট মেয়েকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়েই সেই প্রতিবেশীর কাছেই নিজেদের ১২ বছরের ছোট মেয়েকে বিক্রি করে দেন ওই দম্পতি। যদিও পরের দিনই প্রতিবেশীদের তৎপরতায় নারী ও শিশু কল্যাণ (Women and Child Welfare) দফতরের কর্মীরা নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম চিন্না সুবাবাইয়া। তিনি বিবাহিত হলেও দাম্পত্য অশান্তির কারণে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। সেই সময়ও চিন্না ওই পরিবারের ছোট মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। সেই সময় প্রস্তাব খারিজ করে দিলেও সম্প্রতি বড় মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই দিনমজুর পরিবার।

সেই সুযোগকেই কাজে লাগান ওই ব্যক্তি। এক প্রকার নিরুপায় হয়েই চিন্নার প্রস্তাবে রাজি হন ওই দম্পতি। নাবালিকার মা-বাবা ২৫ হাজার টাকা দাবি করলেও চিন্না দরদাম করে ১০ হাজারে রফা করে। এরপর গত বুধবার তিনি ওই কিশোরীকে বিয়ে করে দামপুরে নিজের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে ঘর থেকে কিশোরীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা হাজির হন। এরপরই সমস্ত ঘটনা জানতে পেরে তাঁরা গ্রামের সরপঞ্চের কাছে গিয়ে সমস্ত বিষয়টি জানান। তিনিই রাতে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরে খবর দেন। সকালে তাঁরা ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে সরকারি শিশু আবাসনে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে।

এদিকে, পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছে।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *