চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষের নাম অমলিন হয়ে থাকে, যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও নিজেদের কর্ম, সততা এবং মানবিকতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেন| তাঁরা কখনো উচ্চকণ্ঠ নন, বরং তাঁদের শক্তি নিহিত থাকে নীরব অধ্যবসায়ে, অবিচল দায়বদ্ধতায় এবং মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধে| তেমনই এক প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ শাহ আলম খোকন—একজন মানবদরদী সংগঠক, যাঁর জীবন ও কর্ম সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত|
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত গ্রামের উত্তরপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৫ সালে তাঁর জন্ম| পিতা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শফিকুর রহমান এবং মাতা আফিয়া রহমানের স্নেহ, শাসন ও আদর্শিক শিক্ষায় তাঁর ˆশশব গড়ে ওঠে| পিতার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ত্যাগ ও দেশপ্রেম তাঁর চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত হয়, যা পরবর্তীকালে তাঁর জীবনদর্শন ও কর্মপন্থাকে প্রভাবিত করেছে| ছোটবেলা থেকেই তিনি শিখেছেন—নিজের জন্য নয়, বরং মানুষের জন্য বাঁচার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত অর্থ নিহিত|
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মনোযোগী, মেধাবী এবং লক্ষ্যে অবিচল| কনকাপৈত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি তাঁর শিক্ষাগত দক্ষতার পরিচয় দেন|
এরপর ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন| একই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি তাঁর শিক্ষা-ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন| শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং বাস্তবজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং দায়িত্ববোধও অর্জন করেছেন|
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় অর্থ অ্যাপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেশাগত যাত্রা শুরু করেন| কর্মক্ষেত্রে তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং কর্মদক্ষতা দ্রুতই তাঁকে আলাদা করে তোলে| ধাপে ধাপে তিনি নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ একটি বৃহত্তর পরিসরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে| তাঁর মধ্যে ছিলো নতুন কিছু করার সাহস এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দৃঢ়তা—যা তাঁকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে গেছে|
বিশেষ করে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট খাতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য| আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমš^য় করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তিনি গ্রহণ করেন এবং সেখানে সফলতার রাখেন|
২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি ম্যানুফ্যাকচারিং মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইমপ্ল্যান্টস এন্ড ইন্সট্রুমেন্ট স্থাপনে তাঁর অবদান ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| এই উদ্যোগ দেশের সাস্থ্যখাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে—দেশীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পথ সুগম হয়| তাঁর এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আজও প্রাসঙ্গিক এবং অনুকরণীয়| বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন|
পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনেও তাঁর সক্রিয়তা ও আদর্শিক অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট| ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আদর্শিক দৃঢ়তা অর্জন করেন| রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে| একাধিকবার কারাবরণ এবং প্রায় দশটি মামলার সম্মুখীন হয়েও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেননি| বরং প্রতিটি বাধা তাঁর আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে| তিনি প্রমাণ করেছেন—আদর্শে অবিচল থাকলে প্রতিকূলতাও একসময় শক্তিতে রূপ নেয়|
তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি একজন মানবদরদী সংগঠক| সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা করা, বিপদে-আপদে মানুষের জন্য এগিয়ে আসা—এসব কাজ তিনি করে গেছেন নিরবে, নিঃ¯র্থভাবে| তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার মানবিকতায়, তার সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায়| এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে—যেখানে মানুষের কল্যাণই তাঁর প্রধান লক্ষ্য|
প্রচারবিমুখতা তাঁর চরিত্রের একটি বিশেষ ˆবশিষ্ট্য| তিনি কখনো নিজের কাজকে প্রচারের আলোয় আনতে চান না| বরং তিনি বিশ্বাস করেন, ভালো কাজ নিজেই তার পরিচয় বহন করে| এই কারণে অনেক সময় তাঁর অবদান আড়ালে থেকে গেলেও, যারা তাঁর কাজের সঙ্গে পরিচিত, তাঁদের কাছে তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়|
ব্যক্তিজীবনে তিনি বিনয়ী, সংযমী এবং নীতিনিষ্ঠ| মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণে রয়েছে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ, যা সহজেই মানুষকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করে| একজন সংগঠক হিসেবে তিনি যেমন দৃঢ়, তেমনি একজন মানুষ হিসেবে তিনি সহানুভূতিশীল—এই সময়ে তাঁকে করে তুলেছে অনন্য|
বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তি ¯^ার্থ অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক দায়িত্বকে আড়াল করে দেয়, তখন মোহাম্মদ শাহ আলম খোকনের মতো মানুষ আমাদের সামনে এক ভিন্ন পথ দেখান| তিনি দেখিয়েছেন—নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব; সাফল্য মানে শুধু অর্জন নয়, বরং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা|
বিঘ্ন-বিপত্তি, বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি থেমে থাকেননি| প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি গ্রহণ করেছেন সাহস ও ˆধর্যের সঙ্গে, এবং এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্যপানে| তাঁর এই নিরব, কিন্তু দৃঢ় পথচলা আজকের এবং আগামীর প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষা|
মোহাম্মদ শাহ আলম খোকনের জীবন এক কথায় একটি চলমান প্রেরণার গল্প—যেখানে আছে সংগ্রাম, আছে সাফল্য, আছে ত্যাগ, এবং সর্বোপরি আছে মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা| আমি বিশ্বাস করি, তাঁর এই আলোকিত পথচলা আগামী দিনগুলোতেও সমাজকে পথ দেখাবে, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং মানবিকতার আলো আরও বিস্তৃত করবে|
আন্তরিকভাবে কামনা করি শাহ আলম খোকন ভাইয়ের প্রতিটি শাখা ভরে উঠুক আরো সমৃদ্ধিতে আরো সফলতার শীর্ষচূড়ায় এবং কামনা করি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত|