জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ২০০২- ২০০৫ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফিজিবিলিটি পরীক্ষা করা হয়েছিল খালেদা জিয়া সরকারের আমলে এবং সেই ফিজিবিলিটি অনুসারে এই মাওয়াতেই এ্যালাইনমেন্ট নির্দিষ্ট করেছিলেন খালেদা জিয়া সরকার। যদিও দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় করে পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে, কিন্তু পদ্মা সেতুটা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যদিও এখানে (পদ্মা সেতু নির্মাণে) ব্যয় কমানো যেত, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা যেত। সেটা জনগনের দাবি ছিল কিন্তু করা যায়নি। যারা এখানে অর্থের অপচয় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মেগা প্রকল্পের নামে লুট হয়েছে। ত্রিশ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বিশ লাখ কোটি টাকার ওপরে বৈদেশিক ঋণ রেখে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে। ১৬টি মেগা প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে গিয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি। ঠিকাদার পালিয়ে গিয়েছে, শুরু করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বিদেশি দাতাসংস্থা যারা আছে, যারা আমাদের বন্ধু হিসেবে বড় বড় প্রকল্পে সহযোগিতা করত, তারা এখন অনীহা প্রকাশ করছে ১৮ বছরের দুর্নীতি ও আনুষ্ঠানিকতার প্রক্রিয়ার কারণে।’
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, পরিচর্যা করতে হয়। আজ গাছ লাগালেন এক বছর পর গাছ নাই, তা লাগানোর কোনো অর্থ নাই। প্রতিমন্ত্রী দেখবেন কয়টি গাছ লাগানো হলো। আর আমি দেখব, এক বছর পর কয়টি গাছ জীবিত আছে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে এই সরকার কাজ করবে না। এই সরকার টেকসই উন্নয়ন চায়, জবাবদিহিমূলক শাসন চায়।’
সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার এ কে এম নাসিরউদ্দীন কালু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামান।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন