রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের (৩৫) পচা-গলা লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। নিহতের পা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা এবং গলা কাটা অবস্থায় ছিল।
শনিবার (১৬ মে) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বসিলা ব্রিজের উত্তর-পশ্চিম দিকে বুড়িগঙ্গা নদীতে কচুরিপানায় আটকে থাকা একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বসিলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নি.) মো. আলাওল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, আনুমানিক ৮ থেকে ১০ দিন আগে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়। লাশটি দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পচে গলে গেছে। এমনকি ভিকটিমের হাত ও পায়ের আঙুলের চামড়া খসে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাজারীবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং টহল টিমের সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর সভাপতি আব্দুল সালাম সময়। নদীকেন্দ্রিক অপরাধ ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনের সভাপতি দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থেকে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় নদীর বুকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নদী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত সবাই।
এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply