কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকসেবীদের দফায় দফায় হামলায় ৮ জন আহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় গ্রামবাসী মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই গ্রামের ৮ জনের উপর মাদকসেবীদের দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলার দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা শাখাওয়াত হোসেন শামীম, বিএনপি নেতা মীর আলমগীর হোসেন, ভেন্ডার এমদাদুল হক সোহেল, শরিফুল ইসলাম, জামিম শাহ, সাদ্দাম হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত (১ জুন) সোমবার যাত্রাপুর গ্রামের শাহ জাহান মিয়ার বাড়িতে মাদকসেবনকালে স্থানীয় গ্রামবাসী উপজেলার পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে মোঃ বাবু (২৪), বাবুল মিয়া ছেলে ইমাম হোসেন (৩২) হারুনুর রশিদের ছেলে মোঃ ওয়াসিম (৩০) ও পাশ^বর্তী ফেলনা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে মোঃ মুসা (২৬) কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।
জানা গেছে, থানা পুলিশ তাদেরকে ওই দিনই ৩৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করে। আদালত থেকে তারা জামিনে বের হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত মাদকসেবনকারীরা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকে। এ সময়ে তারা যাত্রাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে জুনায়েদ হোসেন (২৩) ও ফটিক মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২১) কে পেয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে ওই মাদকসেবীরা আবারো জড়ো হয়ে যাত্রাপুর গ্রামে ব্রিজের উপরে পূনরায় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ওই গ্রামের আবদুস ছাত্তারের ছেলে কামরুজ্জামান সোহাগ, মাহবুবুল হকের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, হেলাল মিয়ার ছেলে সায়েম, ছেরাজ মিয়ার ছেলে মামুনসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এই ঘটনায় জুনায়েদের বাবা আবুল বাশার বাদি হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়ের পরও পুলিশ প্রশাসন কোন আসামী গ্রেফতার না করায় তারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে মানববন্ধনে উপস্থিত লোকজন জানান। তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফ হোছাইন বলেন, মাদকসেবীদের হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।