ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা, স্মারক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্র প্রদর্শনী।
‘স্মৃতিতে রক্তিম জুলাই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় হলের সভাকক্ষে আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে থাকা সূর্য সেন হল ছিল সেই আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগ্রামের অন্যতম যোদ্ধা মারুফা মায়া। তিনি আন্দোলনের রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে শহীদ ও বীর সংগ্রামীদের ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন।
এর আগে অতিথিদের পরিবেশবান্ধব গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১ মিনিটের নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ পর্বে আন্দোলনকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মনোয়ার হোসেন সোহাগ, মো. আবু জাফর, মো. আরিফুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক সাকিবুল হাসান, সূর্য সেন হল সংসদের সহ-সভাপতি আজিজুল হক এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোখলেছুর রহমান জাবির, মো: আবিদুর রহমান (মিশু) এবং আরমান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে হল সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে ‘এ মৃত্যু উপত্যকা’ শীর্ষক কবিতা আবৃত্তি এবং স্মারক সংগীত পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া হলের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত আলোকচিত্র নিয়ে ‘স্মৃতিতে আমার জুলাই’ শীর্ষক এক বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আজহারুল ইসলাম।
সমাপনী ও সভাপতির বক্তব্যে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার অনেকাংশ সূর্য সেন হলে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখানে সময়মতো মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করা হয়, এক রুমে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকা বন্ধ করা হয়েছে এবং হল পরিচালনার সকল কাজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের সেই গণতান্ত্রিক চেতনা সবার মাঝে সর্বদা বিরাজ করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করি।”

Leave a Reply