জামালপুর-৪ আসনে পুনঃভোটের দাবি নৌকার প্রার্থীর

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ভোট কারচুপি, জালিয়াতি করে ফলাফল ঘোষণা, নৌকা প্রতীকের অ্যাজেন্টদের মারধরের অভিযোগে তুলে পুনঃনির্বাচন বা পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকালে নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর, মারধর, হুমকির বিবরণ তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ-বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ‘নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজধানীর তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো: আবদুর রশীদ শুরু থেকেই নির্বাচনকে প্রভাবিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে হিংসাত্মক ও ধংসাত্মকসহ নানা অপকৌশল গ্রহণ করেন। তথ্য গোপনের মধ্যদিয়ে প্রার্থিতা টেকার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি করেন। ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীর ছোট ভাই অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে ও বড় ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটান। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিরাগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এনে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে অন্যায় প্রভাব বিস্তার করেন। পৌরসভার বিএনপি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে বিএনপি নেতাদের সাথে সমঝোতা ও বিএনপি-জামায়াতের ভোটারদের কালোটাকার মাধ্যমে ট্রাক মার্কায় ভোট সংগ্রহ করেন। বেশকিছু কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ট্রাক প্রতীকে নিজেদের পুলিং অ্যাজেন্ট ও বহিরাগতের দিয়ে এবং ট্রাকের প্রার্থী নিজে উপস্থিত হয়ে গণহারে সিল মারেন।’

এছাড়া প্রশাসনিকভাবে ‘কাটছাট’ ও ‘নয়-ছয়’ করে ট্রাক প্রতীকে বেশি ভোট দেখিয়ে নৌকাকে পরাজিত করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোট গণনার কিছু ‘কাট-ছাট’ করা কপি ও ‘অনিয়মের’ চিত্র তুলে ধরেন। ম্যাজিস্ট্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রার্থী হিসেবে তাকে কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দলের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার, আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত, তথ্য গোপন করায় ট্রাক প্রতীকের প্রার্থিতা বাতিল এবং নির্বাচনের পুনরায় ভোটগ্রহণ বা ভোট গণনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ লতিফ, উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন পাঠান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।


Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *