কেমন আছেন খালেদা জিয়া, জানালেন চিকিৎসক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি খুবই ধীর গতিতে হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তেই তাকে চিকিৎসার মধ্যে রাখা হচ্ছে। স্যালাইন ও ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে নিয়মিত ডায়ালাইসিস।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) উন্নতি হচ্ছে। তবে আহামরি নয়। কিছু ছোট ছোট ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। তার অবস্থা এখনও বিদেশে নেওয়ার মতো নয়। বোর্ড দেশে রেখেই তাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে চান। তার শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের কারণে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনও ম্যঢাম ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টের মধ্যে আছেন।
খালেদা জিয়া কথা বলতে পারেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, সিসিইউ’র রোগীরা এমনিতেই কথা কম বলে থাকে। কারণ প্রতিনিয়ত ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়। ডাকলে কিছুটা কথা বলেন তিনি। প্রতি মুহূর্তে তিনি চিকিৎসার মধ্যে থাকেন। আশা করি সবার দোয়ায় তিনি সেরে ওঠবেন।
বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ নভেম্বর তাকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আরথ্রাইটিস ও ইনফেকশন জনিত সমস্যা যেগুলোর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন।
গত মাসের ২৩ তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি-পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ফসফস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির অবস্থার দ্রুত অবনতি পরিলক্ষিত হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কেবিন থেকে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের লক্ষে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এ স্থানান্তরিত করা হয়।
মেডিকেল বোর্ডের আরেকজন সদস্য জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে গুলশানের বাসা থেকে প্রতিদিন খাবার পাঠানো হচ্ছে। সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা, সৈয়দা শামিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এবং স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। তাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবউদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এভারকেয়ার হাসপাতালের খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *