September 22, 2026, 7:22 am
শিরোনাম :
গাজী নজরুলের বিষয়ে স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি সচিব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক শিক্ষা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মাধ্যমেই বজায় থাকবে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব: শিক্ষামন্ত্রী বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য বিজিএফসিএলের অপ্রতিম হত্যার বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনে এসপি-ওসিদের বদলি হবে লটারিতে; স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী নির্বাচনে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।

আগামী নির্বাচনের তফসিলের আগে লটারির মাধ্যমে পুলিশ সুপার (এসপি) ও ওসিদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সচিবালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

সেটারই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের এই মিটিং ছিল। মিটিংয়ে মূলত নির্বাচনের সময় যে লজিস্টিকগুলো লাগে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো একটা জিনিস যেটা নিয়ে সব সময় আপনাদের প্রশ্ন থাকে যে, ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং ওসি-এরা নির্বাচনে একটা ভাইটাল রোল প্লে (মূল ভূমিকা পালন) করে। আপনাদের একটা সন্দেহ থাকে…বিভিন্ন প্রার্থীরা চায় যে তার পরিচিত কোনো ডিসি, এসপি, ইউএনও বা ওসি (নিজের নির্বাচনী এলাকায়) নিতে পারে কিনা। এবার আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটা প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থেকে। সিদ্ধান্তটা হলো- আমরা বিশেষ করে পুলিশ বিভাগের এসপি এবং ওসিদের সবার সামনে লটারির মাধ্যমে পোস্টিংটা (পদায়ন) করে দেবো। এখন যারা যেখানে আছে, তাদেরই আমরা বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করবো। সেটা আমরা লটারির মাধ্যমে করে দেবো। যেন কারও কোনো ধরনের সন্দেহ না থাকে যে, সে অমুকের সাপোর্টার। এসপিদের লটারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই হবে। ওসিদের বিভাগভিত্তিক পোস্টিং করে লটারি হবে বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কিছুদিন আগে লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসিদের পদায়ন করা হবে। আপনারা জানেন শিডিউল ঘোষণা করার পর বদলি-পদায়নের বিষয়গুলো চলে যায় নির্বাচন কমিশনের হাতে। এজন্য আমরা আমাদের কাজটা করে দেবো। তারপরও যদি নির্বাচন কমিশন চায় তারা পরিবর্তন করবে, সেটাও তারা করতে পারবে। উপদেষ্টা বলেন, তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (ডিসিদের পদায়ন) কীভাবে করবে সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আশা করি তারাও এটা করবে। তাদের ক্ষেত্রে তো আমি পুরোটা বলতে পারবো না। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আর একটা বিষয় হলো, নির্বাচনে কি সংখ্যক ফোর্সের দরকার হবে ভালোভাবে ইলেকশনটা পরিচালনা করার জন্য। আমরা সেখানে একটা বডি ক্যামেরা দেয়ার চেষ্টা করবো। সেটা কীভাবে কিনতে হবে এবং কার কাছে থাকবে- এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বডি ক্যামেরাটা কারা পাবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে বডি ক্যামেরা দেয়ার চেষ্টা করবো। এ বডি ক্যামেরা থাকবে সেখানে পুলিশের যে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ তার কাছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য সময় যেমন আপনারা জানেন প্রিজাইডিং অফিসাররা অন্যের বাসায় থাকে, এবার যেন তারা কেন্দ্রেই থাকতে পারে সেটার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের সঙ্গে আনসার, পুলিশ সবাই থাকবে। এ ছাড়া সব বাহিনীগুলোকে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যাতে পোলিং এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। প্রশিক্ষণের পর আমাদের বাহিনীর সদস্যগুলোকে নিয়ে একটা মহড়াও দেবো। নির্বাচনটা যাতে ভালোভাবে হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা মোট আট লাখের মতো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীগুলো তাদের নিজেদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। যার যার ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ হবে। উপদেষ্টা বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো। আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমার মনে হয় কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। আল্লাহর ইচ্ছায় নির্বাচন খুব ভালোভাবে হয়ে যাবে।