জিবিসি ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি শহিদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা। তারা শহিদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা।
সাক্ষাৎকালে মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা উপহার দেন। গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম খচিত জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের এই রেপ্লিকাটি রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে এ স্মারক উপহার দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন।
মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় শহিদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পরিবারের সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানালে রাষ্ট্রপতি শহিদ ও আহতদের পরিবারের পাশে রাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের দায়িত্বের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাওয়ার কথাও সাক্ষাৎকালে উঠে আসে। সাক্ষাৎকালে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।