September 22, 2026, 4:07 pm
শিরোনাম :
ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩১ পুলিশ কর্মকর্তার পদে পরিবর্তন স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ জাতিসংঘ সফরে তারেক রহমানের যত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি পুনর্নির্বাচিত মাহবুবুর রহমান গাজী নজরুলের বিষয়ে স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি সচিব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ

মাসরুর হুসনিন

দেশে প্রচলিত ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের সংশ্লিষ্ট পক্ষ করা হয়েছে।  আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর ফলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন মুদ্রা সরবরাহের ক্ষেত্রে যথাযথ ভিত্তি ও সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। নোটিশে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’র প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে পণ্য ও সেবার উৎপাদন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।

১০০০ টাকার নোট নিয়ে যে দাবি:

আইনি নোটিশে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এত উচ্চ মূল্যমানের নোটের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম। বরং নোটদাতার দাবি, উচ্চ মূল্যমানের নোট অবৈধ অর্থ বা অপ্রদর্শিত টাকা নগদে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখার সুযোগ থাকলে অর্থনীতিতে একটি অনানুষ্ঠানিক বা ‘ছায়া অর্থনীতি’ বিস্তারের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের মাধ্যমে নগদ অর্থের বড় লেনদেন কমানো এবং অর্থকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয় আইনি নোটিশদাতার দাবি ও যুক্তি; এগুলো সরকারি সিদ্ধান্ত বা বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

ভারতের ২ হাজার রুপির নোটের উদাহরণ:

নোটিশে প্রতিবেশী ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহারের মাধ্যমে নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশেও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে নগদে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ শনাক্ত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কালো টাকার বিস্তার কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

১৫ দিনের সময়সীমা:

আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ করা এবং ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষার দাবিতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

জীবনধারণের অধিকারের প্রসঙ্গ:

নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের ‘জীবনধারণের অধিকার’-এর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশদাতার বক্তব্য অনুযায়ী, এই অধিকার শুধু বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা নাগরিকের জীবনযাত্রার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের আর্থিক বিবরণীতে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ১ হাজার টাকার নোটের প্রায় ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৬টি নোট প্রচলনে থাকার তথ্য রয়েছে। একই নথিতে প্রচলিত ব্যাংক নোটের বিপরীতে স্বর্ণ, রৌপ্য, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে রয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।