September 22, 2026, 4:07 pm
শিরোনাম :
ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩১ পুলিশ কর্মকর্তার পদে পরিবর্তন স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ জাতিসংঘ সফরে তারেক রহমানের যত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি পুনর্নির্বাচিত মাহবুবুর রহমান গাজী নজরুলের বিষয়ে স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি সচিব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আরিফ বিল্লাহ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু সরকার চায় না। সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীতের সীমাবদ্ধতা বা অজুহাত না দেখিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের সরবরাহ, রোগীদের খাবারের মান, চিকিৎসক সংকট, ল্যাবরেটরি সুবিধাসহ হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। ফলে জনগণের প্রতি সরকারের বড় ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসব মানুষের সার্বিক দায়িত্ব সরকারের কাঁধে বর্তায়। অতীতের অজুহাত দিয়ে আর লাভ নেই। দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। যা আছে, তা দিয়েই গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই।’

৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হবে হাসপাতাল:

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে হাসপাতালটিকে ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর ফলে স্থানীয় মানুষের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগও নিতে হবে। এর আগে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনেও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখলেন:

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকার পরও বাইরে থেকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখা এবং রোগীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করেন তিনি। সরকারি হাসপাতালের সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম যেন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারে জোর:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংস্কার এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম দূর করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। সোমবার ঢাকায় জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি নতুন সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নাগরিকদের সহজ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশি রোগী আসে—এমন হাসপাতালগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।  এ ছাড়া দেশের উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আগস্টে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রোগীবান্ধব সেবায় গুরুত্ব

গজারিয়া হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।