September 21, 2026, 6:01 pm
শিরোনাম :
গাজী নজরুলের বিষয়ে স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি সচিব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক শিক্ষা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মাধ্যমেই বজায় থাকবে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব: শিক্ষামন্ত্রী বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য বিজিএফসিএলের অপ্রতিম হত্যার বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজীপুরে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭ বগি লাইনচ্যুত, নিহত ১

Reporter Name

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের রেললাইন কেটে ফেলায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে এবং রেললাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ী নিহত এবং চালক ও তার সহকারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেলার ভাওয়াল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বনখড়িয়া এলাকার চিলাই ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তের জন্য তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের নাম মোহাম্মদ আসলাম (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা রৌহাসাইটা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি মুরগি ব্যবসায়ী।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুষ্কৃতকারীরা গ্যাস কাটার দিয়ে গাজীপুরের ভাওয়াল স্টেশন ও রাজেন্দ্রপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী বনখড়িয়া এলাকার চিলাই নদীর ওপর নির্মিত চিলাই ব্রিজের প্রায় ১০০ ফুট উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের পূর্ব পাশের প্রায় ২০ ফুট রেললাইন কেটে রাখে। এলাকাটি দুর্গম ও নির্জন। রাত ১১টায় মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ব্রিজে উঠার আগে সেখানে আসা মাত্রই বিকট শব্দে ইঞ্জিনসহ পরবর্তী সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে রেললাইনের ঢালে কাত পড়ে। তবে ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লাইনের পাশের জমিতে কাত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় একজন ব্যবসায়ী নিহত এবং চালক (লোকোমাস্টার) ও তার সহকারী চালক এবং নারীসহ অন্তত ১২জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রেললাইনের অন্তত ৬০০ ফুট দুমড়ে মুচড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রেললাইনের পাশ থেকে একটি ও ঘটনাস্থলের পাশের জঙ্গল থেকে আরো একটি গ্যাসের সিলিন্ডার (বোতল) উদ্ধার করেছে। প্রতিটি সিলিন্ডার ১২ কেজি ওজনের। তিনি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঘটনার সময় ট্রেনের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। ফলে ট্রেনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। গতি বেশি থাকলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এ দিকে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ সময় শ্রীপুর থেকে একটি ইঞ্জিন এনে দুর্ঘটনা কবলিত বগিগুলো বাদে বাকি বগিগুলো টেনে শ্রীপুর স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনা কবলিত বগিগুলো উদ্ধার শেষে বিকেলে রেললাইন মেরামতের কাজ করা হয়।

রেল কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেনগুলো ভৈরব-কিশোরগঞ্জ হয়ে চলছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বলাকা কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ও মহুয়া কমিউটার ট্রেনের যাত্রা কর্তৃপক্ষের আবেদনে বাতিল করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক মো: কামরুল আহসান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী সফিকুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
আহত ১৩ জন : শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: রফিকুল ইসলাম জানান, ট্রেন দর্দুটনায় আহত ১৩ জনকে এ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা হলেন- ট্রেন চালক ইমদাদুল হক ও সহকারী চালক মো: সবুজ মিয়া, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রফিকুল মোল্লা, একই উপজেলার জামিলা, কুমিল্লার জসিম উদ্দিনের মেয়ে সুরভী সাহা, গৌতম সাহার স্ত্রী রুপালি সাহা, মনির উদ্দিনের ছেলে বেলাল উদ্দিন, জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রওশন আরা, নিজাম উদ্দিনের ছেলে জলিল, লালু মিয়ার ছেলে সুমন, কুদ্দুসের ছেলে সবুজ, ইসমাইল হোসেনের ছেলে এমদাদ, নেত্রকোনার গনি মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম মোল্লা। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ট্রেনচালক ইমদাদুল হক, সহকারী চালক মো: সবুজ মিয়া ও রুপালি সাহাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত রফিকুল ইসলাম মোল্লা, জামিলা ও সুরভী সাহাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
নাশকতার সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের : গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলের পাশ থেকে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। একটি সিলিন্ডার প্রায় ২০ ফুট রেললাইন কেটে রাখা হয়েছে যে জায়গায় তার পাশেই ছিল। অপর সিলিন্ডারটি কিছু দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা দেখে বোঝাই যাচ্ছে, এটা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। দুষ্কৃতকারীরা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে প্রায় ২০ ফুটের মতো লাইন কেটে রেখে দিয়েছিল। যার কারণে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক মো: কামরুল আহসান বলেন, প্রায় ১০০ সিøপার এবং ৩০০ ফুট রেললাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোচগুলো রেললাইনের পাশে রাখব। পরে রেললাইন মেরামত করে ক্রমান্বয়ে কোচগুলো তুলে আনব।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী সফিকুল আলম বলেন, এটা দুর্ঘটনা নয়, নাশকতামূলক কাজ। যারা দুষ্কৃতকারী, যারা অবরোধকে সমর্থন দিচ্ছে তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমি মনে করি দুষ্কৃতকারীরা যে কাজটি করেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। দেশের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। আমাদের টিম ও গোয়েন্দারা কাজ করছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই এদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
তদন্ত কমিটি গঠন : গাজীপুরের বনখড়িয়ায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে একটি রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে ঢাকা ডিভিশনের পক্ষ থেকে একটি টেকনিক্যাল তদন্ত কমিটি এবং অপরটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।