September 21, 2026, 4:06 am
শিরোনাম :
২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য বিজিএফসিএলের অপ্রতিম হত্যার বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোস্টগার্ডকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী অনুমোদন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী অপ্রতীম হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ইতালি সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনেই রেমিট্যান্স ২৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহিদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গাজী মনিবুর রহমান নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা: নিরাপত্তাবিধি ছাড়াই কাজ চলাকালে মাচা ভেঙে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৩

আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা-প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মূল অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজার যাবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রোববার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরা।

সম্মেলনে মোট পাঁচটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তা, আশ্রয়শিবিরের মানবিক সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর সহযোগিতা কামনা করবেন।

সম্মেলনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরাও উপস্থিত থাকবেন।

গতকাল রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উখিয়ার ইনানীর সেনাবাহিনী পরিচালিত বে-ওয়াচ হোটেলে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘টেকঅ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শিরোনামের এ অংশীজন সংলাপে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি যোগ দেন।

সম্মেলনকে ঘিরে কক্সবাজারে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার প্রবেশপথ, উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা ও ইনানী পর্যটন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য। বিদেশি অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা রুট নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ধারা ১৭(ক) (১) অনুযায়ী জেলার সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারীকে অবিলম্বে থানায় জমা দিতে হবে, নইলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস অভিযানের পর প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বিধানীতির কারণে আট বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের এ সম্মেলনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।