মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিসরে রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং মন্ত্রিসভায় নতুন দু-একজন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
আলোচনায় রয়েছে, মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সে ক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। বিএনপির রাজনীতি ও জাতীয় সংসদে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এন এইচ খান মনজুর নামও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। দলের তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উপসচিব বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন হলে তবেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে। মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে আলোচনা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যও জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি এবং সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হলেও এখনই বড় ধরনের দফতর পুনর্বণ্টন বা ব্যাপক মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য রদবদল হলে তা মূলত প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যেই সীমিত রাখা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কার দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে বা নতুন কারা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।