সবশেষ গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, শহিদ মিনার, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়া সব প্রার্থীকে সনদ দেওয়ার দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করা হলে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ছাড়াও শহিদ মিনারে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য ও প্রাথমিকের শিক্ষকরা, এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, যমুনা অভিমুখে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও ইআরপিপি আউটসোর্সিং কর্মীরা কর্মসূচি পালন করেছে। এর ফলে গতকাল সকাল থেকেই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এসব এলাকায়। গন্তব্যে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয় মানুষকে।
পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের একের পর এক আন্দোলন, অবরোধ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। কথায় কথায় রাস্তা দখল করা নিয়মে পরিণত হয়ে যায়। এমনকি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে লাগাতার কর্মসূচি। অবস্থা বেগতিক দেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা এলাকা, সচিবালয়, শাহবাগসহ বেশ কযেকটি জায়গায় সভা-সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু কে শোনে কার কথা, কখনো যৌক্তিক আর কখনো বা ঠুনকো দাবিতে রাজপথে সবর হয়ে উঠছেন আন্দোলনকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে একের পর এক আন্দোলন নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সেই সঙ্গে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে পায়ে হেঁটে। এতে তিক্ত-বিরক্তি প্রকাশ করেও নিস্তার পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
গতকাল সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়া কয়েকশ প্রার্থী। এ সময় আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। এরপরও তারা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে তাদের ওপর জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।