শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরীক্ষা শেষে আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে চিন্তা করছে কমিশন। পরীক্ষা শেষ হলে জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু করার আশা রয়েছে। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত থাকতে হয়। ফলে ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখেই নির্বাচনের সময় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একটি বিষয় নয়, একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হয়। একই সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করলে উভয় কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয়জনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ কারণে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরিবর্তে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগাযোগ প্রসঙ্গে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে চিঠি চালাচালির কোনো নজির নেই। তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযোগী সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের চাপের কারণে পরিবর্তন করা হয়নি বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধান—সবকিছু বিবেচনা করেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তখন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল। তবে পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসায় সেই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে কমিশন। এখন ইসি নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন না করে জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু করার কথা বলছে।
তবে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে—এমন কোনো চূড়ান্ত তফসিল বা নির্দিষ্ট ভোটের তারিখ এখনো ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং ঠিক কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসি জানিয়েছে, সাধারণত ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে জানুয়ারিতে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সব মিলিয়ে, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে পরীক্ষা শেষে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি ও ধাপভিত্তিক নির্বাচন কোন সময়ে হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।