September 24, 2026, 6:59 pm
শিরোনাম :
আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী এ বছর নয়, জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল বাংলাদেশ-ক্রোয়েশিয়া জোরদারে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু অর্থায়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: মোজাফফরের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি আজ সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ১৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ১৮০ দিনের সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারে তারেক রহমান- এরদোয়ানের অঙ্গীকার

আরিফ বিল্লাহ

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে দেশের মেধাবী তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচারের প্রবণতাকে উল্টো দিকে ঘোরানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস আয়োজিত ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে আর দেশে ফিরে আসেন না। বিদেশে তারা যে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তা দেশের শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে তাদের জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিলেই হবে না; তাদের দেশে ফেরার পথও তৈরি করতে হবে। দেশের বাইরে থাকা মেধাবী তরুণদের দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা গেলে মানবসম্পদের সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশকে একটি শিক্ষা হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। একসময় মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশে আসত। এখন বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। মালয়েশিয়া কীভাবে শিক্ষা হাবে পরিণত হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব বিদেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর পাশাপাশি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতেও বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশেও একইভাবে বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ মানবসম্পদ। দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের কথাও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

চীনের উন্নয়ন থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এহছানুল হক মিলন বলেন, চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে ধরনের সংযোগ রয়েছে, বাংলাদেশেও এ ধরনের শিল্প-শিক্ষা সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নকে মানবসম্পদ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়াতে এ খাতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে এআই, কম্পিউটার প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শিল্পভিত্তিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাতের উন্নয়নেও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। চীনের সহায়তায় কয়েকটি রেপ্লিকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করা গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর সুযোগ তৈরির বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলা আমাদের প্রথম ভাষা এবং ইংরেজির পর তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা চালুর ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার আগ্রহ রয়েছে।  তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে কাজ করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের প্রযুক্তি, ভাষা, কারিগরি দক্ষতা, গবেষণা ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। চীনের শিক্ষা ও কারিগরি খাতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন বক্তব্য দেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক আলোচনায় আসে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।