গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের সভাপতি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তিনি এখন হাব অফিসে আসেন না। তিনি দেশে নাকি বিদেশে চলে গেছেন তাও কেউ বলতে পারেন না। এ অবস্থায় গত নির্বাচনে তসলিমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকরা নতুন করে নির্বাচনের দাবি করে সভা-সমাবেশ করছেন। এ ছাড়া হাব অফিসে ভাঙচুরও করেছেন তারা। অন্য দিকে তসলিমের প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা জানান, হাবের বর্তমান কমিটি নির্বাচিত। এটি একটি সংগঠন। সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নয় যে এখানে সভাপতি অনুপস্থিত থাকলেই আবার নির্বাচন করতে হবে। বরং সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহসভাপতি দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নির্বাচিতদের মধ্যে শুধু হাব সভাপতি ছাড়া বাকিরা সবাই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কমিটির লোকেরাই শক্তিশালী ও বেশির ভাগ সদস্যের আস্থার জায়গা। ফলে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও লাভ হবে না।
জানা যায়, চলতি বছরের ২ মার্চ হাবের ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে দু’টি প্যানেলের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়ে শাহাদাত হোসাইন তসলিমের নেতৃত্বাধীন হাব সম্মিলিত ফোরাম বিজয়ী হয়। তসলিম পান ৪০৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী হাব গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদের প্যানেল প্রধান ও সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ ২২৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এ ছাড়া হাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৭টি পদে সম্মিলিত ফোরামের সব প্রার্থী জয়লাভ করেন। ঢাকা আঞ্চলিক পরিষদের ১৩টি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাতটি পদেও হাব সম্মিলিত ফোরামের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ ছাড়া সিলেট আঞ্চলিক পরিষদের সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে হাবে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাব সভাপতি লাপাত্তা হওয়ায় এ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাব গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদে নির্বাচিতরা শনিবার মতিঝিলে হোটেল সেন্টার ইন এ এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে হাবের সাবেক মহাসচিব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল-নাসের, আটাবের সাবেক নেতা গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক, আল নাফি হজ ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। সেখান থেকে হাব সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করা হয় এবং বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি জানান হয়।
একই ভাবে হাবের বর্তমান কমিটির নেতাদের প্যানেল হাব সম্মিলিত ফোরাম সমর্থিত হাব উলামা ফোরাম নয়া পল্টনের একটি হোটেলে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এ ছাড়া তারা গতকাল নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরির সাংগু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে উলামা ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মুহাম্মাদ কুতুবুদ্দীনের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী, হাবের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ গোলাম সরোয়ার, সাবেক সহসভাপতি ফরিদ আহমেদ মজুমদার, বায়রার সাবেক কালচারাল সেক্রেটারি মোবারক উল্লাহ শিমুল, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান, এজেন্সি মালিক কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন, হাবের জনসংযোগ সচিব মাওলানা জোনায়েদ গুলজার।
বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান : গতকাল এক বিবৃতিতে হাবের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী ও মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার লিপ্ত রয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে হাবের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তারা হাবের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টিকিট সিন্ডিকেটের অভিযোগ এনে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

Leave a Reply