বাগেরহাটের চিতলমারীর চরকচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে- এমন অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক- কর্মচারী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি জানিয়েছেন।
কর্মঘণ্টা ও প্রশাসনিক পরিচালনায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ;
অভিযোগকারীদের ভাষ্যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ দিনই প্রতিষ্ঠান ১০টা থেকে ১–২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। তারা দাবি করেন, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজের অজুহাতে সুপার মো. বাকি বিল্লাহ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান এবং শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নিজের প্রভাব বজায় রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,সরকারি সময় ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান চালানো হয় না। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জাতীয় সংগীতে অনীহা ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ;
কিছু শিক্ষক জাতীয় সংগীতের সময় অনীহা দেখান এবং শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি অনুদান আত্মসাৎ–সংক্রান্ত অভিযোগ পূর্বে অমীমাংসিত;
অভিযোগকারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল করিম, সুপার বাকি বিল্লাহ এবং শিক্ষক প্রতিনিধি শেখ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ পূর্বেও ওঠে। তবে তা অজ্ঞাত কারণে তদন্তের পর্যায়ে এগোয়নি বলে অভিযোগ।
বয়সোত্তীর্ণ নৈশপ্রহরীর বেতন ভাতা ভোগের দাবি;
স্থানীয়দের দাবি, নৈশপ্রহরী আশ্বাব আলী জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও এখনও সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
ম্যানেজিং কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তি অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ;
সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পরও ম্যানেজিং কমিটিতে পূর্বের বিতর্কিত শিক্ষক প্রতিনিধি শেখ লিয়াকত আলী পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় নেতা বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় কমিটিতে আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে। এতে মাদ্রাসার পরিবেশ আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘুষ লেনদেন ও দালালির অভিযোগ; কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সুপার বাকি বিল্লাহ শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন এবং এমপিও-সংক্রান্ত কাজে দালালি করেন।
একজন শিক্ষক দাবি করেন, হাজিরা সংক্রান্ত একটি বিষয়ে আমাদের একজন সহকর্মীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। লেনদেনটি অফিস সহকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আনিসুর রহমান নিজেকে বড় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রায় সব বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্টাফ জানান, সুপার ও শিক্ষক প্রতিনিধি দু’জনের সম্মতিতেই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি (অফিস সহকারী) দাবি করেন। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্তের দাবি; স্টাফ এবং স্থানীয়রা জানান, এসব অভিযোগ সুপার ও সভাপতিকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(চলবে—পরবর্তী পর্বে আরও নতুন তথ্য ও আরও সাক্ষ্য প্রকাশ করা হবে)