বেগম জিয়ার জানাজা শেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিষ্কারে ক্লিন চাঁদপুর সদস্য বৃন্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শেষে যখন লাখ লাখ মানুষের শোকাতুর পদচারণায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনশূন্য হতে শুরু করেছে, তখনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা করলেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশের নেতৃত্বে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানিয়ে অধিকাংশ মানুষ যখন মাঠ ছাড়ছেন, তখন শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে হাতে ঝাড়ু আর পলিথিন ব্যাগ তুলে নিলেন এই যুবনেতা। তাঁর নেতৃত্বে ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী জানাজা স্থলের আবর্জনা পরিষ্কার করে দেশপ্রেম ও নাগরিক সচেতনতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শোকের আবহে সেবার মানসিকতা : বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা। স্মরণকালের এই বৃহত্তম জমায়েতে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে আসা মানুষের ফেলে যাওয়া পানির বোতল, প্লাস্টিক প্যাকেট এবং উচ্ছিষ্ট কাগজে ভরে গিয়েছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের একাংশ। জানাজা শেষে বিকেল ৪টার দিকে যখন ভিড় কমতে শুরু করে, তখন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান তাঁর সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে নেমে পড়েন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।

অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খানের বক্তব্য : পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালীন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন শৃঙ্খলার প্রতীক। তিনি আজীবন পরিচ্ছন্ন ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর জানাজার ময়দান ময়লা-আবর্জনাযুক্ত থাকা আমাদের জন্য শোভনীয় নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রীর আদর্শ অনুযায়ী আমরা কেবল শ্লোগানধারী কর্মী হতে চাই না, বরং দেশ গড়ার কারিগর হতে চাই। ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর মাধ্যমে আমরা চাঁদপুরকে যেমন পরিচ্ছন্ন রাখার আন্দোলন করছি, আজ রাজধানীর রাজপথেও সেই দায়িত্ব পালন করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের শিখিয়েছেন রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা। জানাজায় আসা লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে রাস্তাঘাট নোংরা হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ময়লা পরিষ্কার করা আমাদের নাগরিক কর্তব্য। আমরা চাই এদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মী যেন সমাজ সংস্কারের কাজে এভাবে এগিয়ে আসে।”

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের প্রভাব : সাধারণত বড় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সমাবেশের পর এলাকাটি বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়। কিন্তু অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগ উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বিদেশি কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর এই কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে জানাজায় আসা অনেক সাধারণ মুসল্লিকেও আবর্জনা কুড়াতে দেখা যায়। সংসদ ভবন এলাকায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও যুবদল নেতার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

‘ক্লিন চাঁদপুর’ ও নুরুল আমিন খানের প্রেক্ষাপট : অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদপুরে ‘ক্লিন চাঁদপুর’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জেলা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক এই দায়বদ্ধতা তাঁকে সাধারণ মানুষের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আজকের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে, রাজপথের লড়াকু সৈনিক হওয়ার পাশাপাশি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা : সন্ধ্যা থেকেই অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান ও তাঁর দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে থাকে।

নেটিজেনরা এই উদ্যোগকে ‘নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির চর্চা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে এমন সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ের এই শোকাবহ দিনে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খানের এই কাজ শোকাতুর মনে প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে ও জনকল্যাণে তাঁর এই নিভৃত দায়িত্ব পালন আগামীর রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে থাকবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পরিচ্ছন্ন রাজপথ যেন বার্তা দিচ্ছিল- ব্যক্তি বিশেষের সচেতনতাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *