নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে কক্সবাজারে ওএমএসের চাল-আটা কালোবাজারে, নেপথ্যে ডিলার ও কর্মকর্তার সিন্ডিকেট!

কক্সবাজারে সরকারি খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ওএমএস নীতিমালা-২০১৫ এর তোয়াক্কা না করে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকি মূল্যের চাল ও আটা প্রকাশ্যেই কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওএমএস ডিলার এবং খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও যোগসাজশেই এই অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

নিয়ম নীতির চরম লঙ্ঘন:

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে (প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা) এই খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার কথা। কিন্তু কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে “মাল শেষ” বা “আজ বরাদ্দ কম” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ পেছনের দরজা দিয়ে রাতের আঁধারে বা ডিলারের নিজস্ব গুদাম থেকে বস্তা পরিবর্তন করে এসব চাল ও আটা স্থানীয় খোলা বাজারের বড় ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

বস্তা পরিবর্তন করে ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি:

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওএমএসের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সিলযুক্ত বস্তাগুলো থেকে চাল ও আটা সরিয়ে বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক বা চটের বস্তায় ভরা হয়। এর পর সেগুলো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সাধারণ মানুষের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সরকার যে উদ্দেশ্যে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে, তার সুফল থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ।

কর্মকর্তা ও ডিলারদের রহস্যজনক ভূমিকা:

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ওএমএস কেন্দ্রে খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একজন তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডিলারদের এই অনৈতিক বাণিজ্যের পেছনে কিছু কর্মকর্তার নীরব সমর্থন রয়েছে এবং তারা নিয়মিত মাসোহারা বা কমিশন পাচ্ছেন। যার কারণে কোনো ধরনের তদারকি বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ১৩ তারিখে ঝাউতলা মোড়ে ওএমএস ডিলার তপন কান্তি দাস এর দোকান অনিয়মের পাওয়াই জেলা খাদ্য কর্মকর্তা কর্তৃক সিলগালা করা হয়। একই রকমে অনিয়ম পাওয়ায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ডের সামনে ডিলার হাসেম এন্টারপ্রাইজ এর পয়েন্টে পাওয়ার পরেই জাতীয় জরুরি সেবার সহযোগিতার জন্য ৯৯৯ কলদিয়ে কক্সবাজার সদর থানার এ এস,আই বিকাশ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা যাচাইয়ের পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করার পরে এস,আই আব্দুল্লাহ হাসান এসে বিষয়টি তিনি সত্যতা পাওয়ার পরে মালামাল জব্দ তালিকা করেন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ও দুইজনকে গ্রেফতার করেন। কিছুক্ষণ ডিলারের প্রতিনিধি সঙ্গে গোপনে কথা বলার পরে এসে সাংবাদিকদের জন রোষানলে ফেলন ও মব সৃষ্টিতে সহযোগিতা করেন।জন সম্মুখে বলেন সাংবাদিকদের বলেন তাদের কথা মত সব করা হয়েছে।নিউজ লেখা পর্যন্ত পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ:

কক্সবাজারের স্থানীয় বেশ কয়েকজন নিম্নআয়ের মানুষের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও চাল-আটা পাই না। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখি সরকারি ওএমএসের চাল বস্তা বদলে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ডিলারদের জিজ্ঞেস করলে তারা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের বক্তব্য:

এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অবৈধভাবে সরকারি চাল-আটা মজুত ও কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যদি অন্যায় করে থাকেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজকে বন্ধের দিন বিষয়টি আমরা রবিবার দিন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *