খামারী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, প্রাণিসম্পদ এর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবার কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (LDDP) দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ৮ মাস যাবত মাঠ পর্যায়ে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে আসা ৪,২০০ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) কর্মী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলএসপি কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রাণিসম্পদ সেক্টর দুবর্ার গতিতে এগিয়ে চলেছে। করোনাকালীন জরুরি সেবা প্রদানসহ ৬,৫০০টি উৎপাদক দল (PG) গঠনের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে খামারিদের সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গত ৩০ জুন তারিখে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই এই প্রকল্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে ৪,২০০ জন এলএসপি কর্মী আকস্মিকভাবে চাকরি হারিয়েছেন।
আন্দোলনরত কর্মীদের ভাষ্যমতে, “আমাদের কর্মকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে, আমরা এখন জীবন্ত একটা লাশ, যাকে কবরস্ত করা হয়নি। আমরা পরিবার পরিজনের দিকে তাকিয়ে দ্বায়বদ্ধ একটা জীবন পার করছি।”
ইতিপূর্বে কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৩ বার সংবাদ সম্মেলন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে ৯ বার মানববন্ধন এবং ৫ বার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস ও ফরওয়ার্ডিং পাওয়া গেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এলএসপি ঐক্য পরিবারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ হোসেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বয়স প্রমার্জন করে কোনো শর্ত ছাড়াই সকল এলএসপি কর্মীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর অথবা ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ডিএলএস-এর মহাপরিচালকের নিকট এই যৌক্তিক দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


Leave a Reply