আজকে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল কি না— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে উনি ক্যাবিনেটে না, আলাদাভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব
নির্দেশনা পাওয়ার পরে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে বলেও জানান এ তথ্য জানিয়েছেন।
হঠাৎ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন- মাঠ পর্যায়ে এখন ক্লোজ মনিটরিং হচ্ছে এবং আজকে তার কিছুটা ইম্প্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, এটা দেখতে পাচ্ছেন তো আপনারা, পাচ্ছেন না? গতকাল যে ট্রেন্ড ছিল আজকে তো সে ট্রেন্ড নাই।
নির্দেশনাটিতে সুনির্দিষ্টভাবে কি ছিল— জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে আমাদের নজরদারি বাড়ানো। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো এবং আমাদের যারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা।
উল্লেখ্য, পেঁয়াজ রফতানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে পণ্যটির দাম বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ বা এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার মুদির দোকানসহ পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।
নেদারল্যান্ডস বিশ্বের ১৪০টি দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করে। তবুও ইউরোপের এই দেশের আফসোসের যেন শেষ নেই। হল্যান্ড পেঁয়াজ সমিতির জার্নালে কয়েক দিন আগেও লেখা হয়েছে—ভারতীয় পেঁয়াজের কারণে বাংলাদেশের মতো বড় বাজারে ডাচ পেঁয়াজের পুরোনো হিস্যা পুনরুদ্ধার করা যাচ্ছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ৭ লাখ ২৭ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে। ওই বছর আর কোনো দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেনি। জাতিসংঘের পণ্যবাণিজ্য পরিসংখ্যানের তথ্যভান্ডার (ইউএন কমট্রেড) অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের পর যে দেশটি সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে, সেটি যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬০ হাজার টন। এরপরের অবস্থানে ছিল মালয়েশিয়া। তাদের আমদানি সোয়া পাঁচ লাখ টন।