মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামে এক চরম নৈরাজ্যকর ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে মুকবিল হোসেন (৫৫) নামের এক লেবাসধারী অপরাধী। জমির দালালি, নজিরবিহীন জাল-জালিয়াতি, জোরপূর্বক জমি দখল এবং প্রকাশ্য মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে এই ব্যক্তি। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী দোসরদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসলেও, এখনো সে রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এই চিহ্নিত অপরাধীর হাত থেকে বাঁচতে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আনারপুরা গ্রামের আকবর আলী ও আঞ্জুমান নেছা দম্পতির দ্বিতীয় পুত্র মুকবিল হোসেন। এলাকায় সে মূলত জমির দালালির মুখোশ পরে এক ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তার মূল কৌশল হলো—যেকোনো জমির ওয়ারিশদের কাছ থেকে সামান্য কিছু অংশ কেনা, আর সেই অজুহাতে জাল দলিলের মাধ্যমে পুরো জমি জালিয়াতি ও জোরপূর্বক গ্রাস করা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনারপুরা এলাকার মৃত মাহফুজের ওয়ারিশদের কাছ থেকে মিরেরগাঁও মৌজায় নিজের বাড়ি সংলগ্ন মাত্র ১০ শতাংশ জমি কেনে মুকবিল। কিন্তু পরবর্তীতে চরম পেশীশক্তি খাটিয়ে সে ওই জমির ৩০ শতাংশ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে নেয়। এখানেই শেষ নয়, নিজের কেনা জমির পাশে মাটি ভরাটের নামে কৌশলে অন্য প্রতিবেশীদের শতক শতক জমি জোরপূর্বক ভরাট করে আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অপরাধের অকাট্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মুকবিলের এই প্রকাশ্য অন্যায় ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করলে বা প্রতিবাদ জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্ন কায়দায় ভয়াবহ হয়রানি করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের রাজনৈতিক খুঁটির জোরে সে দীর্ঘদিন ধরে এই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।
ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি মুকবিল হোসেন এলাকায় এক বিশাল মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সে অত্যন্ত অভিনব ও চতুর কৌশল অবলম্বন করে। সারাদিন গরুর ঘাস কাটার ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পৈক্ষারপাড় এলাকার বৈদ্যারগাঁও যাওয়ার ব্রিজের ওপর ওত পেতে থাকে। সেখানে মাথায় বাঁধা গামছার ভেতরে লুকিয়ে রাখা নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী নেশাদ্রব্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাদকসেবীদের হাতে তুলে দেয় সে। এই মাদক ব্যবসার অবৈধ কালো টাকায় এলাকায় একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িও নির্মাণ করেছে এই অপরাধী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও ক্ষোভের সাথে জানান, মুকবিল নিজে একজন চরম মাদকাসক্ত। মাদক গ্রহণ করে প্রায়ই সে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলাকায় এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিছুদিন আগে মাদকাসক্ত মাতাল অবস্থায় সে মিরেরগাঁওয়ের বাসিন্দা আবুল কাশেমকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও সহযোগিতায় সে যাত্রায় ভুক্তভোগী রক্ষা পান।
বর্তমানে এই জালিয়াতি ও মাদক সিন্ডিকেটের হিংস্র থাবায় চরম নিরাপত্তাহীনতা, আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মাঝে দিন কাটাচ্ছেন আনারপুরা ও আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং এই কালো থাবা থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এসব চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মুকবিল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply