September 16, 2026, 7:52 am
শিরোনাম :
বাগেরহাটের চিতলমারিতে পুলিশের অভিযানে নারীসহ ৬ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার শ্রেণিকক্ষ সংকটে বটতলায় ক্লাস, সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা মানব কল্যাণে চিতলমারির ওয়ালটন পরিবার লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজারকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ! পর্দার আড়ালে পরিবার ও রাজনীতির গল্প: সম্পন্ন হলো তারকাবহুল ‘বেগম পাড়া’র প্রথম লটের শুটিং জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট: জেএসডি প্রেমের জোয়ার, কিন্তু বিয়ের কথায় ভয়! এই সমীকরণের উত্তর খুঁজছে ‘বউ ঘরের লক্ষী’ চিতলমারীর ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে সেলিম খান বাংলাদেশের কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক অর চিতলমারীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত: দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়

হোটেল বয় থেকে নারী পাচারের গডফাদার: যুবদলের নাম ভাঙিয়ে আল মামুনের ‘অন্ধকার সাম্রাজ্য’

Reporter Name

একসময় বনানীর পূর্ণিমা ও পূরবী হোটেলে ফরমায়েশ খাটা সাধারণ এক ‘হোটেল বয়’ থেকে আজকের কুখ্যাত অপরাধ জগতের গডফাদার—এই হলো আল মামুন ওরফে মামুন চৌধুরী। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে রাজধানীর বুকে গড়ে তোলা তার এই অন্ধকার সাম্রাজ্যের মূল মূলধন অসহায় নারীদের শোষণ, দেহব্যবসা ও সর্বনাশা মাদকের সিন্ডিকেট। নরসিংদীর রায়পুরার এই বাসিন্দা বর্তমানে ঢাকার বুকে ১৫টি আবাসিক হোটেল নিয়ন্ত্রণ করে অপরাধের এক একচ্ছত্র রাজত্ব চালাচ্ছে।

শাহ আলী মাজারে পাচারের ‘নীল নকশা’ অনুসন্ধানে আল মামুনের নারী পাচার চক্রের এক শিউরে ওঠার মতো কৌশল বেরিয়ে এসেছে। এর মূল জাল বিছানো রয়েছে মিরপুরের হযরত শাহ আলী (রঃ) মাজার প্রাঙ্গণে।

প্রতারণার ফাঁদ: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশ্রয় বা কাজের খোঁজে আসা অসহায় ও ছিন্নমূল নারীদের টার্গেট করে মামুনের নিযুক্ত একদল নারী দালাল।

ভণ্ড ‘পীর সাহেবা’র রূপ: মাজার এলাকায় আগরবাতি জ্বালিয়ে ভণ্ড ‘পীর সাহেবা’ সেজে বসে থাকা এই দালালরা মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে মেয়েদের আশ্রয়ের প্রলোভন দেখায়।

যৌনপল্লীতে বিক্রি: মেয়েদের মামুনের হোটেলে এনে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। কয়েক দিন শোষণের পর তাদের দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আবাসিক হোটেলের আড়ালে ‘মিনি পতিতালয়’ ও মাদকের আখড়া;

মিরপুর-১ নম্বরের ‘হোটেল আল মামুন আবাসিক’ বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও এটি মূলত এই অপরাধ জগতের প্রধান কার্যালয়। এছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে নির্মিত নতুন হোটেলসহ প্রায় ১৫টি আবাসিক হোটেল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন মামুন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, ছবি সংরক্ষণ ও রেজিস্টার খাতায় তথ্য লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মামুনের হোটেলে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। হোটেলের ম্যানেজার জিএম সাজ্জাদের যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কোনো পরিচয় ছাড়াই এসব কক্ষে বসানো হয় মদ, জুয়া ও অনৈতিক কাজের অসামাজিক আসর।

রাজনৈতিক রূপ বদল ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট
নিজের অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে আল মামুন রাজনৈতিক দলগুলোর সাইনবোর্ড ব্যবহারে অত্যন্ত পটু।

রাজনৈতিক ভোলবদল: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী পরিচয় দিতেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টে নিজেকে যুবদলের নেতা দাবি করে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন।

স্ত্রীর ভুয়া পরিচয়: একই কৌশল নেওয়া হয়েছে পরিবারের ক্ষেত্রেও। মামুনের স্ত্রী নিজেকে সাবেক ‘ছাত্রদল নেত্রী’ দাবি করলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি অতীতে ‘যুব মহিলা লীগ’-এর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

আন্তর্জাতিক পাচার: মামুনের অপরাধের বিস্তার কেবল দেশে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি মাসেই তিনি নারীদের সঙ্গী করে থাইল্যান্ড ও দুবাই ভ্রমণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশের সীমানা পেরিয়ে থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ের বিভিন্ন স্পা ব্যবসার আড়ালে তিনি আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র পরিচালনা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিরপুর মডেল থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে মামুনের গোপন আঁতাত রয়েছে। মোটা অঙ্কের ‘মাসোহারা’র বিনিময়ে সে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, কিছুদিন আগেও সেখানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকরা এসব অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মামুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একজন সাধারণ হোটেল বয় থেকে অপরাধ জগতের প্রভাবশালী গডফাদার হয়ে ওঠার পেছনে মামুনের শক্তির মূল উৎস আসলে কে? কাদের ছায়াতলে থেকে সে একের পর এক অসহায় নারীর জীবন ধ্বংস করছে?—আজ সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এই বড় প্রশ্ন।