নোয়াখালীর কাজীরটেক এলাকায় কৃষিজমির পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় পোল্ট্রি শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রভিটা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চারজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রেজাউল এবং সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবদুর রহিম রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে যে, কাজীরটেক এলাকায় প্রভিটা গ্রুপের জমির সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে আশপাশের কৃষিজমি, জমির স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে প্রভিটা গ্রুপের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের এই অভিযানের পর ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটির সদস্যরা প্রভিটা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রভিটা গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত রুবেল এবং পৌর ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমের নেতৃত্বে একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলায় তারা বিভিন্নভাবে হুমকিও প্রদর্শন করে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহানকে অবহিত করা হয়। তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই হামলার ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, দ্রুত ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রভিটা গ্রুপ জানিয়েছে, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, পদ-পদবি বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিজমি নষ্ট করে বা পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ নয়; এটি দেশের কৃষি ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের পূর্ববর্তী অভিযানের তথ্য আমলে নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।