দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এনে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহেমদসহ পুরো পরিবারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন বিবৃতির উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাগপা`র প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জেনারেল আজিজের ওপরে নিষেধাজ্ঞাকে আরেকটা বিভ্রান্তকর প্রক্রিয়া মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এর আগেও র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা এলেও কোনো লাভ হয়নি। তাই নিজেদের পায়ে নিজেদের দাঁড়াতে হবে। নিজেদের শক্তিতে সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
এসময় তরুণ-যুবকদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আপনারা কোথায়! আমার নিজের ঘর নিজে না সামলাতে না পারলে অন্য কেউ এসে সামলে দেবে না। নিজেদের ঘর নিজেদেরই সামলাতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি অতি দ্রুত খাদের দিকে চলে যাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, অর্থনীতিবিদরা আবারও একই কথা বলতে শুরু করেছেন। মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। তারা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনের পর আবারও নিজেদের মতো করে উপজেলা নির্বাচন করছে। এই নির্বাচনে মানুষ অংশ নিচ্ছে না, ভোট দিচ্ছে না। মানুষ বুঝে গেছে ভোটে গিয়ে কোনো লাভ হবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক এগিয়ে গেছে। গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে নিজেদের মতো নির্বাচন করছে। এমন নির্বাচন করছে যে ৬৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয় না।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারকে উৎখাত করতে চায় না। বিএনপি নির্বাচন চায়- নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে সরাতে। তাই আন্দোলনকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করা হবে। সব দলের সঙ্গে কাজ চলছে। অদূর ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করা হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের আবার কারাগারে নেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, হাজার নেতাকর্মী এখনও কারাগারে। খালেদা জিয়া অসুস্থ, বন্দি অবস্থায় আছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া যাচ্ছে না।
জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস নিয়ে চরম মিথ্যাচার করছে। জিয়াউর রহমানকে বাকশালে যোগ দিতে ফরম পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি যোগ দেন নাই। যার জীবিত সাক্ষী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
জিভিসি নিউস/ ইস