September 19, 2026, 2:18 pm
শিরোনাম :
তিতাস-২৮ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে অভিন্ন ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে শ্রমবাজারে তরুণদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে : প্রধানমন্ত্রী নবীনদের স্বপ্নবুনন: ইসমাইলের উপস্থাপনায় আসছে ‘তারুণ্যের বাংলাদেশ’ সাবেক ছাত্রনেতা মানব মজুমদার সন্তোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর আলোচনায়- জনসংযোগ শুরু বাগেরহাটের চিতলমারিতে পুলিশের অভিযানে নারীসহ ৬ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার শ্রেণিকক্ষ সংকটে বটতলায় ক্লাস, সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা মানব কল্যাণে চিতলমারির ওয়ালটন পরিবার লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজারকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ! পর্দার আড়ালে পরিবার ও রাজনীতির গল্প: সম্পন্ন হলো তারকাবহুল ‘বেগম পাড়া’র প্রথম লটের শুটিং জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট: জেএসডি

“বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে ধরা, প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি!”

নিজেস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের (বিএইচবিএফসি) জোনাল ম্যানেজার ও উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, যিনি সরকারি বেতন কাঠামোর ৩য় গ্রেডভুক্ত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা, তিনি জাতির সম্মানকে পায়ের নিচে ফেলে নিজের পরিবর্তে অন্যকে দিয়ে ব্যাংকিং পেশাজীবীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা দিতে পাঠান—যা একটি মারাত্মক অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

গত ১২ এপ্রিল ২০২৫, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রে দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি) আয়োজিত ‘ক্রেডিট অপারেশনস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ পরীক্ষায় প্রক্সি প্রদান করে ধরা পড়েন তিনি। পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই সন্দেহজনক আচরণের ভিত্তিতে প্রক্সি প্রার্থীকে শনাক্ত করে বহিষ্কার করা হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয় উত্তরপত্র। পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত পরীক্ষার্থী ছিলেন মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

এর জেরে, আইবিবি কর্তৃপক্ষ তাকে ভবিষ্যতের সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এই চরম অনৈতিক কাজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার এমন দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ কর্পোরেশনের সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামো ও নৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিএইচবিএফসি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বিস্মিত ও লজ্জিত। এত উচ্চ পদে থেকেও যদি কেউ এমন প্রতারণা করতে পারে, তাহলে সাধারণ কর্মীরা কী শিখবে? এটা শুধু ব্যক্তি নুরুজ্জামানের নয়, পুরো কর্পোরেশনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশাসনের উচিত কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

তার গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “ছেলেটাকে ছোটবেলা থেকেই জানি। কখনো ভাবিনি এভাবে বদনামের ভাগীদার হবে। গ্রামের মুখ পুড়িয়েছে। আমরা বলতেই পারছি না, আমাদের পাড়া থেকে এমন একটা লোক উঠে এসেছে।”

এই ঘটনায় বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’, ‘প্রতারণা’ ও ‘নৈতিক অবক্ষয়ের’ অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে। দাখিলকৃত কারণ দর্শানো জবাব অপ্রতুল ও অসংলগ্ন হওয়ায়, তাকে শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়—উচ্চ পদে থাকা মানেই নৈতিকতা থাকবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের মতো একজন উপমহাব্যবস্থাপক যখন এমন কলঙ্কজনক কাজ করেন, তখন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে দেশের সচেতন মহল বলেছে, এই ঘটনা কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং এটি গোটা কর্পোরেশনের শুদ্ধাচার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ উদাহরণ সৃষ্টি হবে—যার দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না।

এসব বিষয়ে তার মুঠোফোনে একাদিকবার ফোন করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়ো তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।