আলো-অন্ধকারের দ্বন্দ্বে উত্তরণের আত্মসংগ্রাম

সে এক মানুষ। তার নাম উত্তরণ। সে কারও পরিচিত মুখ নয়, আবার হয়তো অনেকের। কারণ সে শহরের অলিগলিতে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষ, যে একদিন ঘুরে দাঁড়াতে চায়। আর এই ‘উত্তরণ’-এর গল্পই এখন মঞ্চে—বিবেকানন্দ থিয়েটারের নাটক ‘উত্তরণ’।

৩৩ তম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে ২৬ জুন, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে, শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে।

জীবনের কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া এক যাত্রী:‘উত্তরণ’ নাটকে আমরা দেখি একজন মানুষ, যিনি নিজের অতীত ভুলে যেতে চান না, বরং সেই ভুলের পাঁকে দাঁড়িয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান। সমাজ তাকে ‘পথভ্রষ্ট’ বললেও সে জানে, তার ভেতর এখনও কিছুটা আলো বেঁচে আছে। সেই আলোই তাকে টানে নতুন ভোরের দিকে।

কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই সমাজ কি তাকে ফেরার সুযোগ দেবে?

নাটকের ভেতর থেকে ভেসে আসে বাস্তব জীবন; নাটকটি শুধুই একক কোনো চরিত্রের গল্প নয়। এটি অনেক উত্তরণদের গল্প। যারা হারিয়েছে, ভেঙেছে, আবার জোড়া লেগেছে। নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু তাঁর কলমে সেই গভীর অন্ধকার আর আলো খুঁজে পাওয়ার যাত্রাকে রূপ দিয়েছেন এক সাহসী নাট্যরচনায়।

তিনি বলেন, “উত্তরণ মানে আলোয় ফেরা নয়, বরং আলো খোঁজার চেষ্টার মধ্যে বাঁচা। এই নাটক সেই চেষ্টার গল্প।”

নির্দেশনায় এক অন্যরকম শুভাশী:

নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাটকটিকে শুধুই নাট্য মঞ্চে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি গড়েছেন এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা, যেখানে মঞ্চের আলো, সঙ্গীত, পোশাক আর সংলাপ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক বাস্তব পৃথিবীর ছায়া।

নাটক যেন জীবনের আয়না:

এই নাটকে উত্তরণের শিকড় থাকে পচা মাটিতে, কিন্তু তার ডালে ডালে ফুটে ওঠে জীবনের ফুল। যেখানে পঙ্কিলতার মাঝে থেকেও সে বিশ্বাস রাখে সৌন্দর্যে। এই নাটক শুধুই বিনোদন নয়, একধরনের আত্মজিজ্ঞাসা।

মঞ্চের আড়ালে যাঁরা:

মঞ্চ নির্মাণে ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, আলোয় পলাশ হেনড্রী সেন, সঙ্গীত ও পোস্টারে হামিদুর রহমান পাপ্পু, রূপসজ্জা ও পোশাকে ছিলেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময় নিজেই। তাঁদের সম্মিলিত প্রয়াসে নাটকটি পেয়েছে পরিপূর্ণ রূপ।

শিল্পীরা যেন চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি:

এই নাটকে অভিনয় করেছেন: শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, শান্তনু সাহা, রাজীব দেব অমিত, সুধাংশু নাথ, শফিকুল ইসলাম, রিমন সাহা, সুমিত চন্দ্র দাস, অভয় সাহা, প্লাবন আহমেদসহ আরও অনেকে।

তাঁদের সবার অভিনয়ে ফুটে ওঠে সেই উত্তরণদের না বলা গল্প—যাদের পথচলা হয়তো থেমে যায়, কিন্তু থামে না আশা।

ঈদের পর মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায় ‘উত্তরণ’:

ঈদের ছুটি শেষে আবারও মঞ্চে ফিরছে ‘উত্তরণ’। ৩৩তম মঞ্চায়ন তাই শুধুই একটা শো নয়, বরং এক নতুন করে বাঁচার ডাক। নাট্যপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছেন সেই ডাক শোনার।

শেষে প্রশ্নটা থেকেই যায়—
আমাদের চারপাশে যারা হারিয়ে গেছে, তারা কি আদৌ উত্তরণ দেখতে পায়? নাকি থেমে যায় কোথাও, আলো পৌঁছানোর আগেই?

উত্তর খুঁজতে হলে দেখতে হবে ‘উত্তরণ’।
হয়তো আপনিও কোথাও সেই উত্তরণ…


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *