বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের করা শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ‘টাইমড আউট’ বিতর্ক নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে সুস্পষ্ট বিভক্তি দেখা গেছে। এদিকে ভাঙা আঙ্গুলের চিকিৎসা নিতে দেশে ফিরেছেন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব।
ঘটনাটি বাংলাদেশ অধিনায়ককে ‘মর্যাদাহানিকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৪৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টাইমড আউটের শিকার হওয়া লঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।
বিশ্বকাপে গত সোমবারের ম্যাচে ক্রিজে এসে ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে দুই মিনিটের বেশি সময় নিয়েছিলেন ম্যাথিউস। আইসিসির আইনানুযায়ী প্রতিপক্ষ অধিনায়ক এক্ষেত্রে আউটের আবেদন করতে পারেন। আর সাকিব সেটাই করেছেন। এর মাধ্যমে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউটের’ শিকার হন ম্যাথিউস।
আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া সাকিব নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারণ ব্যাখা করে বলেন, ‘দলের জয় নিশ্চিতের জন্যই এমন সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম। জয়ের জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন তা করতে আমি প্রস্তুত ছিলাম।’
মঙ্গলবার দেশের একটি পত্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিখেছেন, ‘ওই সময় ম্যাথিউসের মতো ব্যাটসম্যানকে এভাবে আউট করার প্রয়োজন ছিল কিনা তা সাকিবকে জিজ্ঞেস করা দরকার।’
‘বিষয়টি ক্রিকেটের নিয়মের বিষয় নয়’- বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) প্লটফর্মে তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিকেটের চেতনা ধুলায় মিশে গেল।’
এদিকে সাকিবকে সমর্থন করে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান বলেছেন, ‘(ক্রিকেটের) আইন আছে এবং আপনি এর আওতার মধ্যেই খেলেন। এটিকে অবজ্ঞা করা যায় এবং অজ্ঞরা প্রায়ই এটিকে খোরা যুক্তি হিসেবে দেখায়। ব্যক্তিগত পছন্দের বিবেচনায় কিভাবে একটি ম্যাচ হবে। ম্যাথিউস এবং লঙ্কান সমর্থকরা এতে হতাশ হতে পারেন, কিন্তু খেলার নিয়ম অনুযায়ী তিনি আউটই হয়েছেন।’
তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সাকিব শুধু আপিল করেছেন এবং আম্পায়াররা তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যতক্ষণ এটি আইনের মধ্যে আছে, ততক্ষন আমি কোনো সমস্যা দেখছি না।’
বাংলাদেশের হয়ে ৪০টি টেস্ট ও ৫৯টি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সাবেক ব্যাটার জাভেদ ওমর বলেন, ‘কেউ যেন অন্যায় সুবিধা নিতে না পারে এর জন্যই এই নিয়মটি করা হয়েছে। ম্যাথিউস এখানে কোনো অন্যায় সুবিধা নিতে পারেনি। তবে সাকিবের উচিৎ ছিল এই বিতর্ক এড়ানো।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ম্যাথিউসকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, কিভাবে তার নেতৃত্বে ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের জস বাটলারকে বিতর্কিত ‘মানকাণ্ড’ আউট করেছিলেন। ওই সময় ননস্ট্রাইকের ব্যাটার তার ক্রিজের বাইরে ছিলেন।
ম্যাথিউস ওই বিষয়ে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘ওই সময় তাকে দু’বার সতর্ক করা হয়েছিল।’
সতর্কতার পরও এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় তারা সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিল।