September 18, 2026, 12:02 pm
শিরোনাম :
নবীনদের স্বপ্নবুনন: ইসমাইলের উপস্থাপনায় আসছে ‘তারুণ্যের বাংলাদেশ’ সাবেক ছাত্রনেতা মানব মজুমদার সন্তোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর আলোচনায়- জনসংযোগ শুরু বাগেরহাটের চিতলমারিতে পুলিশের অভিযানে নারীসহ ৬ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার শ্রেণিকক্ষ সংকটে বটতলায় ক্লাস, সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা মানব কল্যাণে চিতলমারির ওয়ালটন পরিবার লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজারকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ! পর্দার আড়ালে পরিবার ও রাজনীতির গল্প: সম্পন্ন হলো তারকাবহুল ‘বেগম পাড়া’র প্রথম লটের শুটিং জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট: জেএসডি প্রেমের জোয়ার, কিন্তু বিয়ের কথায় ভয়! এই সমীকরণের উত্তর খুঁজছে ‘বউ ঘরের লক্ষী’ চিতলমারীর ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে সেলিম খান

গণ অভ্যূত্থান ও জনগণের আকাঙ্খা

মতামত ডেস্ক;
গণ অভ্যূত্থান ও জনগণের আকাঙ্খা- মতামত- শুভ্র মানিক

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণীর, সব পেশার, সব বয়সের, সব দলের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব লিঙ্গের সমাবেশ ঘটেছে। ছাত্রদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়েছে। আর ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপন্তরিত হবেই না কেন? দীর্ঘসময় ধরে একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকার জন্য যে পন্থা বেছে নিয়েছিলো সেটি ভুল ছিলো। জনগণের ভোটের অধিকার যতটা না গুরুত্বপূর্ণ ছিলো তার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো বাক স্বাধীনতা। নায্য কথা বলার সাহস থাকলেও নিপীড়নের ভয়ে কুকড়ে থাকতে হতো। সরকারের তুষ্টি ব্যতিত অন্য সকল মনোভাবকে কঠোরভাবে দমন করা হতো। দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে অনেকটা সরকারের আজ্ঞাবহ করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর মত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার বিষয়টি অনেক প্রগতিশীল আওয়ামীলীগ সমর্থকরাও ভালোভাবে নেয়নি। ফলে সমালোচনা করতে যেয়ে পদে পদে হয়রানী হতে হবে বিধায় অনেকে তাদের মুক্ত চিন্তা ও প্রগতিশীল মনোভাবকে ধরে রাখতে নিরবে সরে যাওয়া বা সয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়।

রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে কৌশলে বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাসহ অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে প্রধান্য দেয়া হয়। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও মন্ত্রীসভায় ব্যবসায়ীদের প্রধান্য দেয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মী মর্মাহত হয়েছেন। যার ফলস্বরূপ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে ৬২ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন যা মোট আসনের এক পঞ্চমাংশ। বিষয়টি নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করলেও তা কেউ আমলে নেয়নি। জনগণের আকাঙ্খাকে অবজ্ঞা করার বহিপ্রকাশ হলো মন্ত্রীসভা গঠনের মধ্য দিয়ে। সামান্য কিছু পরিবর্তন ছাড়া সব পুরোনোদের দিয়েই সাজানো হয়। এছাড়া, প্রশাসনে এবং বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার প্রধান পদে এক যুগের অধিকাল যাবত অবৈধ ও স্বৈরতান্ত্রিকভাবে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগ ও জনমনে তাদের প্রতি ঘৃণা জন্ম দিলেও তাদের প্রতি সরকারের নেক দৃষ্টি সাধারণ জনগণকে সরকার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সরকারের দীর্ঘদিনের চলমান দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বিদেশে অর্থ পাচার, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ এবং সর্বোপরি মানুষের নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা এবং ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। এই কোটার বিরুদ্ধে ছাত্রদের ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যেনো দেশে চলমান সকল বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি রূপে দেখা দেয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ছাত্রদের সাথে দেশের অধিকাংশ সাধারণ জনগণ এমনকি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী নিজেদের মানসিকভাবে একত্মতা ঘোষণা করে। দমন পীড়ন নীতি এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের আচরণে ও দাম্ভিকতায় জনমনে পুঞ্জীভুত ক্ষোভ উষ্কে দেয়। ফলে আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ক্ষমতার মোহে সরকার নিজের তৈরী বর্মের মধ্যে এমনভাবে আবদ্ধ হয়ে যায় যে তারা অবশ্যম্ভাবী পরিনতি আঁচ করতে ব্যর্থ হয়।

রাজনৈতিক সচেতন প্রবীণ নাগরিকদের কথা হচ্ছে, তারা ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান দেখেছেন, ১৯৯০ সালে এরশাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অভ্যুত্থান দেখেছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের এই ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান আগের সবগুলি অভ্যুত্থানকে ছাড়িয়ে গেছে। কেন এই অভ্যুত্থান এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে? কারন, সরকারকে বিগত ১6 বছরের শাসনকে জনগণ মেনে নেয়নি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, গুম, খুন, লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার, লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি, তিন তিনটি নির্বাচনে নির্বাচনের নামে তামাশা, সরকার বিরোধী কণ্ঠরোধ, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবি বৃদ্ধি ইত্যাদিকে মানুষ দুঃশাসন বলে বিবেচনা করছে। অনেক রাজনৈতি সমালোচক বলছেন, এই ১৬ বছরের শাসন হলো রাজনৈতিকভাবে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা। এই আন্দোলন সকল দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করে একটি আদর্শ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম। এটি একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। প্রায় সকল অভ্যূত্থানের মতো দেশের তরুণ সমাজ, যারা দেশের মোট জনগণের প্রায় এক চতুর্থাংশ তারাই এই অভ্যুত্থানের কান্ডারী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অভ্যূত্থান যেনো প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর নারী কবিতা থেকে নেয়া এই উক্তিটির যুগের ধর্ম এই- পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই যথার্থতা প্রমাণ করে দিলো যা ভবিষ্যতের জন্য সাবধানবানীও বটে।

মতামত- শুভ্র মানিক